ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ কংগ্রেস নামে একটি দলের পক্ষে মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম এই রিট করেন।
রিটে নির্বাহী বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা এবং নির্বাচন কমিশন সার্ভিস গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে রুল চাওয়ার পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
এমন সময় এই রিট করা হয়েছে যখন সরকারের নানা পর্যায়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রস্তুতি। মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদায়নের পাশাপাশি শুরু হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে ডিসিদের সঙ্গে নির্বাচনের ব্যাপারে মতবিনিময় করেছে। ডিসিদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাদের আবারও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আরেকটি প্রভাবিত নির্বাচন হবে সেটা নিশ্চিত। তাই জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না।’
রিট আবেদনে বলা হয়, নির্বাহী বিভাগের লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা করা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচার বিভাগের ন্যায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনেরও নিজস্ব লোকবল থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ‘ইলেক্টোরাল সার্ভিস কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগকে দেওয়া হয়। নির্বাহী বিভাগ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে চাহিদা মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা করে। ফলে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।


