জ্ঞান ও মননের আকাঙ্ক্ষা পূরণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘মহান স্বাধীনতা বইমেলা চট্টগ্রাম-২০২৬’। নগরী জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মেয়র শাহাদাত হোসেন মেলার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানান। মেলার প্রতিদিনের কার্যক্রম এবং অনুষ্ঠানমালা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এবারের মেলা সাজানো হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সৃজনশীল প্রকাশকদের অংশগ্রহণে। মেলা প্রাঙ্গণে পাঠক ও দর্শনার্থীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে এবং বই ক্রয় করতে পারে, সেজন্য খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। ১৯ দিনব্যাপী এই মেলায় কেবল বই বিক্রিই নয়, বরং প্রতিদিন থাকবে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজন।
অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, কবিতা ও ছড়া উৎসব, এবং চাটগাঁ উৎসবসহ আরও অনেক আয়োজন।
মেলা মঞ্চে প্রতিদিন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকছে। এ ছাড়া, জাতীয় জীবনে বিশেষ অবদান রাখা গুণীজনদের ‘স্বাধীনতা সম্মাননা স্মারক পদক’ দেওয়া হবে।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রাঙ্গণ সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি একটি বেসরকারি পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থা মেলার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা চৌকিও মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলার প্রচার প্রসারের স্বার্থে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে।
মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মোবাইল ফোন এবং মাদকের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের মেধার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বই হচ্ছে এমন এক বন্ধু যা তরুণদের এই আসক্তি থেকে বের করে সৃজনশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।’
এই মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও অভিভাবকদের সপরিবারে মেলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সৃজনশীল ও মননশীল প্রজন্ম গড়তে এই বইমেলা বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


