প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর খবর টাইমস অব বাংলাদেশে’র কাছে নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মনির হোসেন।
স্বাধীনতার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী, ২০১৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তোফায়েল আহমেদ। গত কয়েক বছর ধরে তিনি বিভিন্ন রকম রোগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শেখ হাসিনার শোক
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন উজ্জ্বল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন পরীক্ষিত, ত্যাগী ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতাকে হারাল। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং ঐতিহাসিক ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক।’
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠন, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তোফায়েল আহমেদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদের প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনীতি, বিশেষত আওয়ামী লীগ পরিবারে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
ভোলায় দাফন
তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাদ মাগরিব তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। মঙ্গলবার সেখানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।


