রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে আটক যুবককে আনসার সদস্যরা পিটিয়ে হত্যা করেছেন, এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
মঙ্গলবার আনসার বাহিনীর মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্যদের মধ্যে প্লাটুন কমান্ডার নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ ও ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ছেড়ে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান।
আনসার বাহিনী বলেছে, আটক যুবককে আনসার সদস্যরা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর বা নির্যাতন করেছেন, এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। আহত অবস্থায় আনসার সদস্যরা ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন, এমন প্রচারিত তথ্যও সঠিক নয় বলে দাবি করেছে তারা।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে আটক এক যুবককে (২৫) আনসার সদস্যরা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
বিটিসিএলের অফিস সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সকালে ওই যুবক দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে ধরেন। পরে বেঁধে মারধরের পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে অটোরিকশায় করে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মরদেহের সঙ্গে হাসপাতালে আসা আনসারের সাবেক প্লাটুন কমান্ডার দাবি করা সৈকত আলী জানান, সকালে চুরির উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে। ধাওয়া দিলে ওই যুবক এক আনসার সদস্যকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গীরা পালিয়ে গেলেও ওই যুবক ধরা পড়েন। পরে তাকে ক্যাম্পে নিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় জানানো হয়েছে।


