হিমালয় অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই শীতের দাপটে কাঁপে দেশের উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়। গত কয়েক দিন ধরে এ উপজেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ধীরে ধীরে কমে বর্তমানে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। এতে তীব্র শীতের প্রকোপ বেড়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ। এর আগে, সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে পঞ্চগড়সহ আশপাশের পুরো জেলায় কয়েক দিন ধরে হিমালয়ের হিমেল বাতাসে শীতের দাপট বেড়েই চলছে। সকালে রোদের দেখা মিললেও তেমন উষ্ণতা মিলছে না। রাত ও ভোরে হিমশীতল বাতাসে গ্রাম-গঞ্জের মানুষজন গরম কাপড় ছাড়া বাইরে বের হতে পারছেন না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

শীতের তীব্রতার প্রভাবে জেলার হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বহির্বিভাগে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ। তাদের বেশিরভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার মহানন্দা নদীর পাথর শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সকালে হিমশীতল পানিতে নেমে পাথর তুলতে ভীষণ কষ্ট হয়। পরিবার চালাতে হয় বলে এই শীতেও নদীতে নামতে হয়।’
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকার পাথর শ্রমিক তৃষ্ণা রানী বলেন, ‘জীবিকার টানে বাংলাবান্ধা এসেছি পাথরের কাজ করতে। কিন্তু এখানে অনেক শীত লাগছে। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।’
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘শীতের এই দুর্যোগে জেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবেই সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে আট হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে চুয়াডাঙ্গায়ও শীত বেশ জেঁকে বসেছে। এখানে বৃহস্পতিবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ।


