দিনাজপুরের বলরামপুরের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী কুলসুম বেগম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে তার অনেক আশা। সেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন এলাকায়, সেজন্য আবেগ যেন বাঁধ মানছে না।
কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমাদের বোনের ছেলে তারেক রহমান। সে এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাবার মতোই ছেলে খাল কাটছে।’
প্রায় পাঁচ দশক আগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচিতে আসা নানা বয়সের কয়েকশ মানুষকে নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে হেঁটে বেড়িয়েছেন, নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছেন। তিনি মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কর্মসূচিতে যোগ দিতেন।
সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও অনুসরণ করছেন বলে মনে করেন দিনাজপুরের বলরামপুরের বাসিন্দারা। সোমবার এই এলাকার ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন তিনি। এই খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশের ৫৩টি জেলায় খাল খননের উদ্বোধন করা হবে।
সাহাপাড়া খালটি দেখলে মনে হয় খাল না, এবড়ো-থেবড়ো উচুঁ নিচু মাটির স্তুপ। খালের পানি শুকিয়ে গেছে। বর্ষাতেও সেভাবে দেখা যায় না খালের পানিপ্রবাহ। ফলে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। বাবার আদর্শের পথ ধরেই হাঁটছেন বিএনপি চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী কাহারোল এলাকায় আসায় এখানকার মানুষ বেশ উচ্ছ্বসিত। উপজেলার বলরামপুরে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে পুরো এলাকা। অনেকেই তারেক রহমানের যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে আছেন তাকে একবার হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাবেন বলে।
সেখানকার গৃহবধূ শিউলী খাতুন বলেন, ‘হামারা ভালো নাই। এই সাহাপাড়া খাল হামাগো দুঃখ। তারেক রহমান আইছে, এবারে খালটি পুনঃখননে হয়ত হামাগো দুঃখ ঘুচবে।’
মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ‘সাহাপাড়া খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এখানে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এই খালে পানি জমানো গেলে মাছ চাষ করা যাবে, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা গেলে সুবজ বনায়ন হবে।’
খাল কাটতে আসা অনিত বলেন, ‘আমাদের আজকে অনেক খুশির দিন। লিডার আসছে, আমাদের হৃদয়ের খুশির কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা এতজন মিলে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছি। এতেই আমরা খুশি। বিনা পারিশ্রমিকে আমরা আজ খাল কাটব। এটাই আমাদের অহংকার।’
দিনাজপুরের পশ্চিমে বলরাপুরের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ১২ কিলোমিটার লম্বা সাহাপাড়া খালটি মিশেছে জেলার প্রধান নদী পুনর্ভবার সাথে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এই নদীর জলস্রোত ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে যা পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।


