তারেক রহমানকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আফজাল: পিপি

তারেক রহমানকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আফজাল: পিপি
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্তকৃত) মো. আফজাল নাছেরের ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেয়।

এদিন আদালতে শুনানিতে আসামির উদ্দেশে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এই আসামি (আফজাল) বিগত সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর যে অত্যাচার ও জুলুম করেছে, তা কখনো ভুলবার নয়।

বিএনপির আব্দুল্লাহ মিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্যান্য নেতাদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, সেই টিমের অন্যতম সদস্য ছিলেন এই আফজাল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এই আফজাল।’

পিপি ফারুকী আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালানো টিমের অন্যতম একজন ছিলেন আফজাল। ইউনাইটেড হসপিটালে চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কিন্তু তিনি তা নিতে দিতে দেননি। ডিজিএফআইয়ের প্রভাব খাটিয়ে এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই, যা তিনি করেননি। এই আসামি জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেয়নি। শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে কাজ করে গেছেন। তাকে রিমান্ডে নিলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এক এগারোর এই কুশীলবকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।’

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দীন। রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে তিনি আদালতকে বলেন, ‘সম্মানহানি ও হেনস্তা করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সময়েই বরখাস্ত হন। যদি তিনি শেখ হাসিনার সমর্থনের লোকই হতেন, তাহলে তাকে সেই আমলেই চাকরি থেকে বরখাস্ত হতে হতো না। এ ছাড়া তিনি ইউনাইটেড হসপিটালে চাকরি করতেন। সেখানকার ব্যবস্থাপনা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। তিনি নির্দোষ। তার রিমান্ড আবেদন বাতিল করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

এ সময় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে জুলাই আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন।

এ সময় আসামি আফজাল নাছেরের নির্দেশে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলি চালায়। এর ফলে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভিকটিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২০ জুলাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্যামলীতে সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়, এবং ২১ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার মামলা দায়ের করে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আসামির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি আফজাল নাছেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

এর আগে সোমবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad