জামায়াতে ইসলামী কখনোই ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। আমাদের দেশ সবার জন্য ঐক্যবদ্ধ জাতি হবে।’
‘আল্লাহভীরু মানুষ সমাজের নেতৃত্বে আসলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব’ বলেও মনে করেন তিনি। শনিবার ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে দাঈ ও ওয়ায়েজ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির।
এ সময় তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা একটি মানবিক সমাজ গঠন করতে পারিনি। এ ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামদের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কোরআন-হাদিসের আলোকে জাতির জন্য কাজ করতে হবে।’
আলেমদের সামাজিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই শতাব্দীজুড়ে একত্রে বসবাস করছে। এই দেশটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিত।’
‘আমরা আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় এখানে জন্মগ্রহণ করেছি, আর সবারই ধর্মের প্রতি সম্মান থাকা উচিত। আমাদের সমাজে আল্লাহর দেওয়া শ্বাশত বিধান কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে’, যোগ করেন তিনি।
নাগরিক সেবার প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, ‘যারা সেবা দেবেন, তাদের ধর্ম বা বর্ণ কোনো বিষয় নয়। নাগরিক সেবা সবার জন্য। আমরা বাজারে গিয়ে কোনো পণ্য কিনতে গিয়ে কোনো ধর্মের পরিচয় খুঁজে দেখি না, শুধু পণ্যের গুণমান ও মূল্য দেখি।’
মদিনার মসজিদে নববীর উদাহরণ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মদিনায় ইহুদিদের জন্য কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তবে তা ইসলাম গ্রহণ না করার কারণে নয় বরং সমাজের সঠিক পরিচালনার জন্য।’
‘একজন শিক্ষিত মানুষ জাতির যে ক্ষতি করতে পারে, হাজার স্বল্প শিক্ষিত মানুষও তা করতে পারে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতির ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষিত মানুষদের সঠিক পথ দেখাতে হবে এবং তারা যদি ইসলামের আলোকে সমাজ পরিচালনা করেন, তবে জাতি শান্তি ও কল্যাণে এগিয়ে যাবে।’
আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাতি ঐক্য প্রত্যাশা করে এবং তারা ইসলামের মৌলিক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে চায়। আমাদের মধ্যে বিভেদ থাকার পরেও, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে, যাতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’


