সুন্দরবনের মোংলা থানার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে সেখানে কর্মরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ঘটনার আসল কারণ খুঁজে বের করতে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘জয়মনির ঘোল এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে কোস্ট গার্ড স্টেশন করায় বনদস্যুদের কাছে খাবার, অস্ত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কারণে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।’
‘প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, কিছু স্বার্থান্বেষী ও অসৎ চক্র নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ওই জায়গা থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দিতে চায়। সেই লক্ষ্যে তারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা, ভাঙচুর ও মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু ধরা ও কোস্ট গার্ডের সফল কাজকে বাধা দিতে এই চেষ্টা করা হচ্ছে।’
সাব্বির আলম সুজন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিনে বের করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনদস্যু দমন, পশুপাখি ও প্রকৃতি রক্ষা এবং উপকূলীয় এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোস্ট গার্ড সবসময় সততার সঙ্গে কাজ করে আসছে। কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি বা অপপ্রচারের মাধ্যমে বাহিনীর এই অভিযান বন্ধ করা যাবে না।
এ বিষয়ে সাংবাদিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আসল তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।


