কৃষি খাতে বরাদ্দ সন্তোষজনক নয়: কৃষি অর্থনীতিবিদ

কৃষি খাতে বরাদ্দ সন্তোষজনক নয়: কৃষি অর্থনীতিবিদ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রত্যাশিত বরাদ্দ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব গোলাম হাফেজ কেনেডি। তিনি বলেন, কৃষি খাতের বরাদ্দ সন্তোষজনক নয়।

কৃষি, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে এ খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল। মঙ্গলবার বাজেট প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে এমন মন্তব্য করেন এই কৃষি অর্থনীতিবিদ।

গোলাম হাফেজ কেনেডি বলেন, কৃষিতে অন্তত ১০ থেকে ১২ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত। শুধু টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বাড়লেই হবে না। গত বছরের টাকার অঙ্কের সঙ্গে এবারের বরাদ্দ তুলনা করলে সেটাকে খুব বেশি বৃদ্ধি বলা যাবে না। শতাংশের হিসাবে কৃষির অংশ বরং কমেছে। তবে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, সামাজিক সুরক্ষা বা কৃষকদের জন্য অন্য কোনো বিশেষ কর্মসূচির ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে কি না, তা বাজেটের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

তিনি বলেন, ‘কৃষিতে বিনিয়োগ না বাড়ালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কোথায়? আমাদের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ এখানে নিয়োজিত। কৃষিভিত্তিক শিল্প, প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। কৃষিতে সুযোগ বেশি বলেই আমরা চেয়েছিলাম বরাদ্দ আরও বাড়ানো হোক। কিন্তু এবারের বাজেটে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

গোলাম হাফেজ কেনেডি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। আমরা এটিকে অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখি। সরকার কৃষিবান্ধব, প্রধানমন্ত্রীও কৃষির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী। কিন্তু বিনিয়োগ না বাড়ালে কৃষি খাতে সমস্যা হবে।’

আরও পড়ুন

গবেষণা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গবেষণায় বিনিয়োগ না হলে ভবিষ্যতে কৃষি থেকে যে ইনোভেশন পাওয়ার কথা, তা বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন প্রযুক্তি, নতুন জাত ও নতুন উদ্ভাবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কৃষির জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। খরা, লবণাক্ততা, বন্যা কিংবা শৈত্যপ্রবাহ–সবকিছুর জন্য সহনশীল জাত প্রয়োজন। গবেষণায় বিনিয়োগ না হলে ভবিষ্যতে কৃষি থেকে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন পাওয়া কঠিন হবে।’

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব কৃষিপণ্যের বাজারমূল্যেও পড়ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু উৎপাদন নয়, বাজার ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে। অন্যথায় মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুষ্টি, নিউট্রিশন, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, দুধ, ডিম—সবকিছুই কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শক্তিশালী হবে। কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতে মোট বাজেটের ৫ শতাংশ নয়, অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল। এমনকি ৮ শতাংশ হলেও কিছুটা ভালো হতো।

‘সরকার কৃষিবান্ধব, প্রধানমন্ত্রী কৃষির প্রতি অত্যন্ত ভালোবাসা ও অনুরাগ রাখেন। কিন্তু বাজেটে যখন কৃষি খাতের বরাদ্দ দেখি, তখন কিছুটা হতাশ হই। আমরা আশা করেছিলাম কৃষির জন্য আরও বড় বরাদ্দ থাকবে। কৃষিতে বরাদ্দ না বাড়ালে শেষ পর্যন্ত আমরাই বিপদে পড়ব। তাই অন্য খাতের অপচয় কমিয়ে কৃষিতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল,’ যোগ করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad