অভিনেত্রী তানজিন তিশা গ্ল্যামার ও অভিনয়গুণ দিয়ে টেলিভিশন নাটকে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতেও সফল হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন শাকিব খানের বিপরীতে। ছবির নাম ‘সোলজার’। তবে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।
তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে সংসার ভাঙার অভিযোগ করেছিলেন সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের স্ত্রী রেহান। সে সময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমার ও হাবিবের সংসার ভাঙার জন্য দায়ী পিয়া বিপাশা ও তানজিন তিশা—দুজনই। তবে সবচেয়ে বেশি দায়ী তানজিন তিশা।’ তিশার সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ ২০১৭ সালে অনলাইনে ভাইরাল হয়।
এরপর টিভি নাটকের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গেও তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনের একটি ভিডিও তিশার ফেসবুক স্টোরিতে প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত বছর গুঞ্জন ওঠে, তিনি গোপনে বিয়ে করেছেন এবং তার সন্তানও রয়েছে। তবে তিশা দাবি করেন, যেসব শিশুর সঙ্গে তাকে দেখা গেছে, তারা তার ভাই-বোনদের সন্তান।
২০২৩ সালের নভেম্বরে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের তৎকালীন প্রতিবেদক মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তিনি তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ আনেন। তবে বিনোদন সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন এবং তার সব ধরনের সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন।
গত বছরের নভেম্বরে ভারতের কলকাতার প্রযোজক শরিফ খান অভিযোগ করেন, তিশা অগ্রিম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে ‘ভালোবাসার মরশুম’ ছবির শিডিউল দিচ্ছেন না এবং টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। তিশা দাবি করেন, শরিফ খান মূল প্রযোজক নন; তিনি লাইন প্রোডিউসার। ভিসা জটিলতার কারণে তিনি কাজটি করতে পারেননি। এর জবাবে শরিফ খান বলেন, শাকিব খানের ‘সোলজার’ সিনেমার অজুহাত দেখিয়ে তিশাই বারবার শিডিউল পিছিয়েছেন এবং ভিসার দায়িত্বও নিজেই নিয়েছিলেন।
একই সময়ে ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজের কর্ণধার ঝিনুক অভিযোগ করেন, তিশা ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেননি। প্রমোশনের কথা থাকলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী আমিনুল ইসলাম মামলা করেন। তিশা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি রাফাত মজুমদার রিংকুর একটি নাটকের সেটে সহশিল্পী সামিয়া অথইকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ফেসবুক লাইভে এসে অথই অভিযোগ করেন, একটি চড়ের দৃশ্য ধারণের সময় তানজিন তিশা স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে তাকে সজোরে চড় ও খামচি দেন, এতে তার হাত ছিলে রক্ত বের হয়। পরবর্তী শুটিংয়েও চোখ-মুখে আঘাত করে ফোলানো এবং গালাগালের অভিযোগ তোলেন তিনি।
অথই-এর দাবি, ২ মার্চ তিশার নতুন সিনেমার খবর উপলক্ষে উপহার নিয়ে গেলে তা গ্রহণ করেননি এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি আরও বলেন, আগে মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজের সময় তিশা তাকে ফোনে হুমকি দেন এবং কেয়া পায়েলসহ অন্যদের সতর্ক করেন।
তিশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলছিলাম। এখানে আমি একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রের প্রয়োজনে সে কাউকে মারতে পারে, কামড় দিতে পারে, এমনকি পানিতে চুবিয়ে মারার মতো আচরণও করতে পারে। কাজটি মুক্তি পেলেই দর্শক বুঝতে পারবেন কোন চরিত্রের জন্য কী করা হয়েছে।’ অথই বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ প্রসঙ্গে তিশার মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট সুদীপ্ত বিশ্বাস বিভু তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা কিংবা ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।


