গত ৫ আগস্ট দেশের মানুষ যাদের বিতাড়িত করেছিল, এখন দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাওয়া একটি দল তলে তলে তাদের সঙ্গেই খাতির তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে যেভাবে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল, এখন তাদের সঙ্গে একটি সুন্দর ‘ছোট লেজ’ গজিয়েছে।
শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে এক জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার মানুষ স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। এখন দেশের মানুষ শান্তি চায়, দেশ গড়তে চায়। কিন্তু একটি পক্ষের তা সহ্য হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে, আর সেটিই তাদের (বিরোধী পক্ষ) প্রধান ‘জ্বালা’। এ কারণেই তারা বিভিন্ন স্থানে আগুন, অবরোধ ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যারা বিভিন্ন ইস্যুতে রাস্তা অবরোধ করছে, অতীতে তারা মানুষের পাশে ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে বিএনপির নেতাকর্মী, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা দাঁড়িয়েছেন।’
অরাজক পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতে গ্রামীণ নারীরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকরা কৃষি কার্ড এবং শিক্ষার্থীরা নতুন বই-পোশাক পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। দেশের উন্নয়নও থমকে যাবে। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়। যারা জনগণের পক্ষে কাজ করবে, সরকার কেবল তাদের নিয়েই কাজ করবে। কারণ, দেশের প্রতিটি নাগরিক এই দেশের অংশীদার। দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে এবং সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৩ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে শিশুদের নতুন স্কুলব্যাগ, পোশাক ও বই বিতরণ করা হবে।’
তিনি জানান, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের গুরুদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা শুরু করেছি। ২০ কোটি মানুষের এই দেশের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে না রেখে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেন তারা দেশে-বিদেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান পায়। দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিএনপির এই পরিকল্পনা সফল করতে হবে।’
ঢাকায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে একটি নিদারুণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এর কঠোর বিচার করা হবে। সব অন্যায়কারীর শাস্তি হবে। তবে আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আইনের দৃষ্টিতে কেউ অপরাধী হলে দেশের প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে অবশ্যই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের দরিরামপুর গ্রামে গিয়ে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই খাল খননের সূচনা করেছিলেন।
পরে বিকেলে তিনি ত্রিশাল নজরুল একাডেমিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে যোগ দেন।


