বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আয়োজনে এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানিলন্ডারিং ও অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা জোরালো করা এবং সামগ্রিক সচেতনতা নিশ্চিত করা। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিএফআইইউ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সারা দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মো. মামুন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সততা, সুশাসন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়লেও এর সঙ্গে ই-কমার্স জালিয়াতি, বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং এবং সাইবার ঝুঁকির মতো আর্থিক অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি কার্যকর করপোরেট সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থা, ঝুঁকিভিত্তিক পরিপালন এবং সন্দেহজনক লেনদেনের সময়মতো রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
এ ছাড়া ২০২৭-২০২৮ চক্রে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের আসন্ন পারস্পরিক মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দেন।
বিএফআইইউ-এর উপ-প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল সততা, সুশাসন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সহযোগিতার মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।
সম্মেলনে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, ঋণ জালিয়াতি ও পুঁজি পাচার রোধ, পরিপালনে নৈতিকতা এবং পারস্পরিক মূল্যায়নের প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্যানেল আলোচনায় বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিবৃন্দের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সম্মেলনে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আর্থিক অপরাধ দমনে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে ঋণের ক্ষেত্রে ভুয়া প্রতিষ্ঠান, জাল জামানত, অর্থের উদ্দেশ্য পরিবর্তন এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়ার মতো ঝুঁকিগুলো হ্রাসে বিশেষ আলোকপাত করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের সাথে সংশ্লিষ্ট সাইবার ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।
একটি টেকসই পরিপালন সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন কার্যকরভাবে রুখতে সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি সমাপ্ত হয়।


