কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম শাকের মিয়া ওরফে শাকের মাঝি (৪২)।
মঙ্গলবার বিকালে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তিনি সাবরাং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে শাকের মাঝিকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, ‘শাকের মাঝি টেকনাফের অন্যতম শীর্ষ মানবপাচারকারী হিসেবে পরিচিত। গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের গভীর সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় মানবপাচারের মূল হোতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, শাকের মাঝির বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মানবপাচার, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা শাকের মাঝির বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তার সহযোগীদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নজুড়ে সক্রিয় রয়েছে একাধিক মানবপাচারকারী চক্র। এসব চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে যাত্রার সময় বাংলাদেশি পতাকাসহ তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করে। তারা পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে জীবিত ছিলেন। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি ও তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিরা হলেন— কক্সবাজার সদরের সমিতিপাড়ার মো. হামিদ (৩৩), নুনিয়ারছড়ার মো. আকবর (৩২), চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মো. মহিউদ্দিন হৃদয় (৪২), টেকনাফের বাহারছড়ার মো. তোফাইল (২৭), হোয়াইক্যংয়ের মো. সোহান উদ্দিন (৩২) এবং টেকনাফ সদরের মো. সৈয়দ আলম (২৭)।
এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা হলেন উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের মো. রফিকুল ইসলাম (২৪), রাহেলা বেগম (২৫) ও মো. ইমরান (১৭)।


