শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ।
মঙ্গলবার বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার বিভাগটির বিশেষ অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বিভাগের ২০২৪ সালের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমাদের সবাইকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। ওই ঘটনার পর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। মামলা হওয়ায় তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
কাজী তামান্না হক সিগমা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আইন প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাস এবং সব পরীক্ষা কমিটি থেকে ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন এটা চলে গেছে প্রশাসনের হাতে। প্রশাসন তাদের মতো করে বিষয়টি দেখবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভিসি স্যারের সঙ্গে আজকে সাক্ষাৎ করেছি, উনিও বিষয়টি দেখবেন।’
কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি না হচ্ছে, ততদিন এটা অব্যাহত থাকবে।’
রোববার রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি বাসা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।
মিমো বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তার ডায়েরিতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং ‘হানি’ নামের এক শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া যায়।
তার সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’


