ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৫’। হুয়াওয়ে ও বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ, উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠন’।
সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের নেতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবকরা বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রা নিয়ে এই অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। এছাড়া সরকারি সংস্থা, মোবাইল অপারেটর, আইসিটি প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক কোম্পানি, করপোরেট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ জন অতিথি টেককানেক্টে অংশ নেন।
হুয়াওয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। উদ্বোধনের পর প্রশাসন, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনে এআই, ফাইভজি, ক্লাউড, আইওটি এবং ফিনটেকসহ নানা ডিজিটাল প্রযুক্তির রূপান্তরমূলক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত উদ্যোগগুলো ব্যাখ্যা করেন।
জিএসএমএ এশিয়া প্যাসিফিক প্রধান জুলিয়ান গোরম্যান ‘‘ব্রিজিং দ্য ডিজিটাল ডিভাইড: এশিয়া প্যাসিফিক ইনসাইটস’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক মো. আবু সাঈদ এবং এটুআই ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) প্রতিনিধিরা ‘এম্পাওয়ারিং এন্টারপ্রাইজেস থ্রু ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ নিয়ে কথা বলেন।
এরপর শীষ হায়দার চৌধুরীর পরিচালনায় ‘ইন্ডাস্ট্রি ডিজিটাইজেশন’ বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও হুয়াওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিল্পে ডিজিটাল অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার ও রূপান্তর সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘বাংলাদেশ আগেই ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রা শুরু করেছে। তবে সম্প্রতি আমরা এই যাত্রার ধাপ ও দিকনির্দেশনা আরও সুস্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমাদের অগ্রগতি ইতোমধ্যেই প্রতিফলিত হয়েছে। অংশীদারদের সহায়তায় আমরা ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে মানুষের আরও ক্ষমতায়ন করতে চাই।’
২০২৫ সালের মার্চ মাসে হুয়াওয়ে ও আইসিটি বিভাগ উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের আইসিটি অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৫’ এই অংশীদারত্বের মূল উদ্দেশ্যগুলোই তুলে ধরেছে।
এটি সরকার, শিল্পখাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
প্রায় এক দশক ধরে আইসিটি বিভাগ নানা ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য আইসিটি অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। হুয়াওয়ের ক্লাউড স্ট্যাক সল্যুশন ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম সরকারি ক্লাউড প্রযুক্তি স্থাপন করে, যা বাংলাদেশের সরকারের জন্য বহুমুখী সেবা দিয়েছে।


