দেশে হাম পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক রূপ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জন মারা গেছেন। এ সময় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ৮৬ জনের মৃত্যু ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ হাজার ৩০৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়েছেন ১২৮ জন। এই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৯ জন রোগী এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ২০৩ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ জনে ও নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ জনের শরীরে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০ হাজার ৫৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৬ হাজার ২১৪ জন।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে হামের প্রকোপ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। মোট ৪৪২ জন সন্দেহভাজন মৃত্যুর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১৭৪ জন।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৭০ জন সন্দেহভাজন ও ৯৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গে মারা গেছেন ১০ জন। অন্য বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহে দুইজন এবং রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুরে একজন করে রোগী মারা গেছেন।
হামের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশজুড়ে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬ চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিএইচআইএস২ ও ইপিআই সার্ভিল্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে।
সারা দেশে এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে ইতোমধ্যে এক কোটি ৮৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৪ জনকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ বিভাগীয় পর্যায়ে সামগ্রিক জাতীয় কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০২%। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১০৩% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম অর্থাৎ ৯৯% কাভারেজ সম্পন্ন হয়েছে।
দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে মোট লক্ষ্যমাত্রা ২০ লাখ ১৫ হাজার ২৮৯ জনের বিপরীতে ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যার গড় কাভারেজ ১০৬%। এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ১১৩% এবং ঢাকা উত্তর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৯% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ৯৭% কাভারেজ রেকর্ড করা হয়েছে।


