ঢাকায় মব করে কেউ পার পাবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
বুধবার ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৭ মে কমিশনারের দায়িত্ব নেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তারপর এটিই তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকায় মব করে কেউ পার পাবে না। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ছিনতাই ও যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ডিএমপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
যানজট রাজধানীর অন্যতম বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চলছে। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে প্রযুক্তিনির্ভর করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে। এতে সড়কে আইন মানার প্রবণতা বাড়ছে।
নাগরিকদের অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সুবিধা, অপরাধসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে ‘হ্যালো ডিএমপি’ এবং হোটেলে অবস্থানকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধীদের শনাক্তে ‘হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডিএমপির কমিশনার। তিনি বলেন, ডিএমপিকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগরে প্রায় তিন কোটি মানুষের বসবাস। এই নগরে ছিনতাই, মাদকের বিস্তার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিংয়ের মতো অপরাধ নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমন মন্তব্য করে ডিএমপির কমিশনার বলেন, এসব অপরাধ দমনে ১ মে থেকে ডিএমপি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সাইবার হ্যাকিং, সাইবার বুলিং, অনলাইন জুয়া, প্রতারণাসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপি কাজ করছে। নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অধীন স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনসংক্রান্ত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।


