দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মশাবাহিত এ রোগটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭৫ জনে। এ ছাড়া নতুন করে আরও ৯৬৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে একজন করে মোট দুইজন মারা গেছেন। একই সময়ে সারা দেশে ৯০৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৩১২ জন।
অন্যদিকে, এ সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, ২৩৯ জন।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ১৯০ জন ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪, বরিশাল বিভাগে ১১৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৮, রাজশাহী বিভাগে ৬৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫১, খুলনা বিভাগে ৫০, রংপুর বিভাগে ১৬ এবং সিলেট বিভাগে পাঁচজন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত এ রোগটিতে মোট ২৭৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে, ১৩৪ জন। পাশাপাশি একই সময়ে বরিশাল বিভাগে ৪০ জন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১, খুলনা বিভাগে আট, ঢাকা বিভাগে তিন এবং সিলেট বিভাগে একজন মারা গেছেন।
চলতি বছর অক্টোবর মাসের এখন পর্যন্ত ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়, ৭৬ জন।
এর আগে আগস্টে ৩৯, জুলাইয়ে ৪১, জুনে ১৯, মে মাসে তিন, এপ্রিলে সাত, ফেব্রুয়ারিতে তিন ও জানুয়ারিতে ১০ জনের মৃত্যু হয় মশাবাহিত এ রোগটিতে। মার্চ মাসে কেউ মারা যায়নি।
অপরদিকে জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪, মার্চে ৩৩৬, এপ্রিলে ৭০১, মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩, জুনে ৫ হাজার ৯৫১, আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৮৬৬ জন এবং ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার ৪৫ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।


