দুগ্ধ উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে খ্যাত পাবনায় নকল দুধ ও ঘি তৈরি যেন থামছেই না। প্রশাসন বারবার অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করলেও কমছে না এই অপতৎপরতা।
ডালডা, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট, সোডা ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড দিয়ে দুধ এবং ঘি তৈরি হচ্ছিল পাবনার ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায়। এবার অভিযান চালিয়ে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়ায় তিনটি দুগ্ধ উৎপাদনকারী এবং সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারে এ অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত রাসায়নিক, ভেজাল ডালডা ও পাউডার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারের কেয়া ডেইরিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে সেখানে ক্ষতিকর ডালডা, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট, সোডা ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড দিয়ে দুধ তৈরির প্রমাণ পান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় কেয়া ডেইরির স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা কেয়াকে নকল দুধ তৈরির দায়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন। জরিমানার টাকা দিয়ে রেহাই পান ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী কেয়া।
একই সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার আমিনা ডেইরি এবং প্রিমিয়াম ফুডে অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ সংরক্ষণ করার দায়ে আমিনা ডেইরিকে ৩০ হাজার এবং প্রিমিয়াম ফুডকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সরকারি পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, ‘ভেজাল দুধ ও ঘি তৈরির গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ ও অন্য দুটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভেজাল দুধ ও ঘিতে সয়লাব হয়ে গেছে এ অঞ্চল।’ ভেজাল রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ‘এই অঞ্চলে নকল দুধ ও ঘি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্র অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।’


