আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে সিডনিতে পা রাখতেই মাঠের লড়াইয়ের জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন ঋতুপর্ণা-আনিকারা। শুক্রবার রাতে সিডনিতে পৌঁছানোর পর ১২ ঘণ্টাও পার হয়নি, এর মধ্যেই শনিবার সকালে ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে প্রথম অনুশীলন সেশন সেরেছে বাংলাদেশ নারী দল। আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ঐতিহাসিক অভিযানের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন পিটার বাটলারের শিষ্যদের মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল থাকলেও বিশ্রামে সময় নষ্ট করতে নারাজ কোচিং স্টাফ। শনিবার সকালের রোদমাখা ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে মেয়েদের চোখেমুখে দেখা গেছে নতুন এক প্রত্যয়। অনুশীলনের ফাঁকে দলের গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ শোনালেন সিডনিতে তাদের প্রথম প্রহরের গল্প। তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দর থেকে মধ্যরাতে হোটেলে পৌঁছে রাতের খাবার সেরে নিয়েছি। এরপর আজ সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম অনুশীলন সেশন শেষ করেছি।’
তবে দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি যে অবধারিত, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন এই কোচ। মাসুদের ভাষায়, ‘দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি আছে। তবে আমরা দ্রুত এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি এবং মেয়েরা কোচের নির্দেশনা মেনেই কাজ করছে।’ প্রথম সেশনে মেয়েদের প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। শারীরিক ফিটনেস পুনরুদ্ধার এবং সিডনির বাতাসের আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি।
আগামী সাত দিন সিডনির এই ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কেই ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ দল। এখানকার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘এখানে একটি ফুটবল দলের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আমাদের কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।’ এশিয়ার এলিট দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার আগে এমন নিরিবিলি ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা মেয়েদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই বিশ্বাস কোচিং স্টাফের।
১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে গড়াবে এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই আসর। গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা বাংলাদেশের জন্য পথটা মোটেও সহজ নয়। ৩ মার্চ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর একে একে মোকাবিলা করতে হবে উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে।


