ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বুধবার ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য যে ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করছে, যার মধ্যে সরকারি বন্ড, করপোরেট বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড অন্তর্ভুক্ত, তা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিঠিতে সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজার বর্তমানে গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক অনুসরণ করছে, যা খাতভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকে আরও স্বচ্ছ, তুলনাযোগ্য ও কার্যকর করে তোলে।
তিনি বলেন, এসব কাঠামো খাত, শিল্পগোষ্ঠী, শিল্প এবং উপখাতভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি বৈশ্বিকভাবে সঙ্গতিপূর্ণ বিশ্লেষণ কাঠামো প্রদান করে।
ডিবিএ চিঠিতে বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাস কাঠামোর কয়েকটি অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে। এতে বলা হয়, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড খাতে তালিকাভুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উভয় কোম্পানিকেই কনজ্যুমার স্ট্যাপলস খাতে অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি খাতে শ্রেণিবদ্ধ করা হলে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক চরিত্র এবং ভোক্তা চাহিদানির্ভরতা আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
ডিবিএর মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ এবং আয় বৃদ্ধির ধারা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিঠিতে বলা হয়, একটি পুরোনো বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের কার্যকারিতা দুর্বল করে এবং বিনিয়োগকারী, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের জন্য বিশ্লেষণগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে বলা হয়, কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি খাতে শক্তিশালী পারফরম্যান্স আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, আর প্রতিরক্ষামূলক খাতের তুলনামূলক ভালো অবস্থান ভোক্তাদের সতর্ক মনোভাবের প্রতিফলন হতে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ করলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পুঁজিবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে আরও শক্ত ভূমিকা রাখতে পারবে।
ডিবিএ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি পর্যালোচনা ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


