ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘নির্বাচনের অনিয়ম’ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলা হলেও সে বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের পরাজিত ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু নির্বাচনের পরে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বিষয়ে নানাবিধ প্রশ্ন ফেসবুকে তোলা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৫ সেপ্টেম্বরে আমাদের ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীদের এই নির্বাচনকে ঘিরে পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ রিটার্নিং অফিসারের কাছে ভোটার উপস্থিতি তালিকা, সিসিটিভি ফুটেজ ও ম্যানুয়াল ভোটগণনার আবেদন জমা দিয়েছিলাম।’
২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের কাছে করা আবেদনের কোনও ‘সদুত্তর’ পাননি বলে জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে উমামা তুলে এনেছেন আরও কয়েক প্রার্থীর অভিযোগ। তিনি লিখেছেন, ‘স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী পোস্টে নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটে ব্যালট পেপারের ছবি প্রকাশ করেন। যিনি ছবিটি তুলেছেন ঐ ব্যক্তি ছাত্রদলের প্যানেলের সংবাদ সম্মেলনে পুনরায় কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে সদুত্তর দাবি করেন।’

‘এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসন কোনো যথাযথ ব্যাখ্যা এখনো হাজির করেনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর সকল আস্থা রেখেই চলতে চাই। আশা করি, প্রশাসন দ্রুত আমাদের সকল পক্ষ থেকে ওঠা প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর হাজির করবেন।’
‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের আরেক প্রার্থী সুর্মি চাকমাও সরকারের কাছে তথ্য অধিকার বিধিমালার আওতায় ডাকসুর ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজের জন্য তথ্য প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন বলে পোস্টে জানান উমামা ফাতেমা। পোস্টের কমেন্টে নিজের করা লিখিত আবেদনের ছবিও সংযুক্ত করেছেন উমামা।
এর আগে ডাকসু নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বসহ ১১ দফা ‘অনিয়মের অভিযোগ’ তোলে ছাত্রদল সমর্থিত আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে সংগঠনটি।
সেখানে লিখিত বক্তব্যে প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে “অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগের’ মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট সরবরাহ, ভোটার উপস্থিত হওয়ার আগেই স্বাক্ষর প্রদান এবং ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রদানের সংখ্যার অসামঞ্জস্য। প্রার্থীরা ভোটার তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
গত ৯ সেপ্টেম্বর বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু ভোটে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮ পদের ২৩টিতে জয় পায়।


