শুরুটা যত নড়বড়ে হোক, ব্রাজিল তো ব্রাজিলই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যে হাইতির বিপক্ষে পরিষ্কার ‘ফেভারিট’, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে চেনা প্রতিপক্ষের নাম ব্রাজিল হলেও এতটুকু ভড়কে যাচ্ছে না হাইতি। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফেরা দলটির কোচ সেবাস্তিয়েঁ মিনিয়ে সাফ জানিয়ে দিলেন, ফিলাডেলফিয়ার সবুজ মাঠে বুকভরা স্বপ্ন আর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই নামবে তার দল।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে মাঠের লড়াই। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আসর শুরু করা ব্রাজিলের জন্য এটি ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে থাকা হাইতির জন্যও এটি টিকে থাকার লড়াই।
শক্তি, ইতিহাস কিংবা ঐতিহ্য–কোনো দিক দিয়ে দুই দলের তুলনা চলে না। ব্রাজিল যেখানে বৈশ্বিক ফুটবলের চিরন্তন পরাশক্তি, হাইতি সেখানে ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম পা রেখেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। তবে ফুটবলে তো আর কেবল ইতিহাস দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। নির্দিষ্ট দিনে যে কেউ লিখে ফেলতে পারে নতুন রূপকথা। ব্রাজিল ম্যাচের আগে হাইতি কোচের মনেও উঁকি দিচ্ছে তেমন এক মহাকাব্য লেখার স্বপ্ন।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মিনিয়ে বলেন, ‘স্কটল্যান্ড ম্যাচে আমরা যতটুকু দৌড়েছি, ব্রাজিলের বিপক্ষে তার চেয়েও বেশি ছুটতে হবে। এই ম্যাচ থেকে কিছু অর্জন করতে আগামীকাল আমরা মাঠে সবটুকু ঢেলে দেব। দীর্ঘ ৫২ বছর পর আমরা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছি, সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে আমাদের লড়তেই হবে।’
বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়াটাই হাইতির ফুটবলের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি উল্লেখ করে কোচ বলেন, ‘এখানে থাকতে পারাটাই পরম সম্মানের। আমি আশা করি আমরা মাঠে এমন কিছু করব, যা দেখে হাইতির মানুষ আমাদের নিয়ে গর্ব করতে পারে।’
প্রথম ম্যাচের হার নিয়ে আর পড়ে থাকতে চান না মিনিয়ে। পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখাই এখন তার মূল লক্ষ্য। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারিনি ঠিকই, তবে এই মঞ্চে খেলার যোগ্যতা যে আমাদের আছে, তা প্রমাণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য বদলায়নি, আমরা পরের ধাপে যাওয়ার জন্যই লড়ব। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের একটি ভালো ভাবমূর্তি তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
পরিসংখ্যান অবশ্য হাইতির পক্ষে কথা বলছে না। ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো জয়ের মুখ দেখেনি তারা। দুই দলের শেষ দেখাও হাইতিয়ানদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় সেলেসাওদের কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল তারা। তবে অতীত ভুলে মিনিয়ে এখন মনে মনে কষছেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ছক।
উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে হাইতি কোচ বলেন, ‘যদি আমরা কোনোভাবে ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ম্যাচটি জিতে যাই, তবে হাইতিতে চরম এক পাগলাটে উন্মাদনা তৈরি হবে।’
বাস্তবতার কঠিন জমিনে দাঁড়িয়েও স্বপ্নের জাল বুনে মিনিয়ে শেষ করলেন এভাবে, ‘হাইতির নাগরিক হিসেবে আপনাকে সব সময়ই সহজ সময়ের চেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বেশি হতে হয়। কিন্তু আপনি যখন ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে আসবেন, তখন তো এমন মুহূর্তেরই স্বপ্ন দেখবেন–বিশ্বকাপের মঞ্চে পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়া।’


