ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারসহ তিন দফা দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে একটি মিছিল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের জন্য রওনা হয়। ডাকসু ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া এ মিছিল টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বরে এসে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।
পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবিগুলো হলো:
১. ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারী সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের সকল সংশ্লিষ্ট অর্গানকে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
একই সঙ্গে যারা এই হামলাকে সমর্থন জুগিয়েছে, হাদি ও জুলাই বিপ্লবীদের হত্যাযোগ্য করে তুলেছে, সেই কালচারাল ফ্যাসিস্টদের সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কট করতে হবে। এসব ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান করতে হবে।
২. আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক চিরুনি অভিযান শুরু করতে হবে। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং সব ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবহেলা সহ্য করা হবে না।
৩. ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম ও অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে ‘খুনি হাসিনাকে’ দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রদত্ত রায় কার্যকর করতে হবে।
গণহত্যাকারী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অভিযুক্তদের ফেরত না দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না।
এই দাবি অনতিবিলম্বে না মানা হলে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না দেখাতে পারলে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি।
তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র। তার পুরো নাম শরিফ ওসমান হাদি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ওসমান হাদি নামে পরিচিত।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন ওসমান হাদি।
তার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ড বলেছে, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। সোমবার তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।


