ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের পাঁচটি হলে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাসেবা হল পর্যায়ে সহজলভ্য করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বাংলাদেশ–কুয়েত মৈত্রী হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে দুই হলের আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেন।
কর্মসূচির আওতায় টিটেনাস টিকা, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধক এইচপিভি টিকা এবং টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হয়। এসব টিকার বেসরকারি হাসপাতালে মূল্য সাধারণত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ টাকা হলেও ডাকসু ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সেবা পান।
টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিনামূল্যের টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সহজে নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া দেখে বোঝা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ কর্মসূচি চালানোর প্রয়োজন রয়েছে। পাঁচটি হলে কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নতুন করে সময়সূচি ঘোষণা করা হবে, যাতে আরও বেশি শিক্ষার্থী টিকা নিতে পারেন।
সাবিকুন্নাহার তামান্না জানান, বেসরকারিভাবে যেসব টিকা নিতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়, সেগুলো সিটি করপোরেশনের সহায়তায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মেয়েদের সব হলে এ সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চিকিৎসক ফারিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ–কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম লুবনা, পাঠকক্ষ সম্পাদক মাহফিদা আক্তার শ্রাবন্তী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাঈমা আক্তার, কার্যনির্বাহী সদস্য ইসরাত জাহান সামিয়া ও মুহসিনা বিনতে কামাল। এ ছাড়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের এজিএস রুপা আক্তারসহ অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


