ডাকসুকে ‘বেশ্যাখানা’ বলা জামায়াত নেতার কুশপুতুলে আগুন

ডাকসুকে ‘বেশ্যাখানা’ বলা জামায়াত নেতার কুশপুতুলে আগুন
ডাকসুকে 'বেশ্যাখানা’ বলা জামায়াত নেতার কুশপুতুলে আগুন দিয়েছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলা সেই জামায়াত নেতার কুশপুতুল পুড়িয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ওই নেতার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করেন।

রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জামায়াত নেতার এমন বক্তব্যকে ‘মানহানিকর ও মিথ্যাচারমূলক’ উল্লেখ করে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি ও হল সংসদ নেতারা। একই সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর একাধিক নেতা-কর্মী।

সমাবেশে হেমা চাকমা বলেন, ‘ডাকসুকে নিয়ে একটি দলের নেতা কীভাবে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করতে পারেন, তা বোধগম্য নয়। আমরা ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আছি। নারীরা এখন নিজেদের অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিয়ে সচেতন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক কষ্ট করে নারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন। সেই নারীদের নিয়েই এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

আরও পড়ুন

ডাকসু বিষয়ে জামায়াত নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: টাইমস

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রার্থী বা কোনো দলের নেতাকর্মী যেই হোক না কেন, নারীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করলে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো। আমরা নারীবান্ধব একটি বাংলাদেশ চাই। সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের জিএস সাদমান আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের অভ্যুত্থানসহ দেশের নানান ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গী। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেখা যায়নি। অথচ অন্যান্য ইস্যুতে ডাকসুর ব্যানারে প্রতিবাদ করা হয়। এ বিষয়ে তিনি প্রত্যেক হল সংসদ থেকে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

জামায়াত নেতার বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও নিন্দা জানিয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad