মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক ‘শান্তি চুক্তিতে’ সই করল থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। রোববার ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এই চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি সইয়ের পর তারা একে অন্যের সঙ্গে হাত মেলান এবং ছবি তোলেন।
এসময় ট্রাম্প বলেন, ‘আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। শান্তির পথে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার এই পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের জন্য একটি নতুন সূচনা।’
দুই দেশের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও আশ্বাস দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে এই সামরিক উত্তেজনা শুরু হয় গত ১৪ জুলাই। দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তের ‘প্রাহ ভিয়ার মন্দির’ এলাকা নিয়ে পুরোনো বিরোধ থেকেই নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েক দিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। নিয়মিত গোলাগুলিতে প্রাণ হারান দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের অন্তত ৪০ নাগরিক, আহত হন শতাধিক মানুষ।
৫ দিন পর ১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক চাপ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি হয়নি।
রোববার ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে সেই সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল। চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ সীমান্তে স্থায়ী শান্তি রক্ষায় যৌথ নজরদারি দল গঠন করবে এবং প্রাহ ভিয়ার এলাকায় কোনো দেশই নতুন করে সামরিক স্থাপনা তৈরি করবে না।
শান্তি চুক্তির পাশাপাশি ট্রাম্প মালয়েশিয়া ও কাম্বোডিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতেও সই করেন। অনুষ্ঠানের শেষে ট্রাম্প হুন মানেত ও আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন এবং ছবি তোলেন।


