টাঙ্গাইলে ১৮ দিন বয়সী ছেলেকে হত্যা ও মরদেহ গুমের দায়ে মা আয়না বেগমকে(২৪) তেরো বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
আয়না বেগম মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের স্ত্রী।
রায়ে শিশু পুত্রকে হত্যার দায়ে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মরদেহ গুমের দায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
সরকারি কৌশুলী (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, সন্তান জন্মের পর আয়না বেগম বাবার বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে তার স্বামী জহিরুল ইসলাম খবর পান, তাদের ১৮ দিন বয়সী ছেলে রায়হান নিখোঁজ।
খবর পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি খালের পানিতে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দেলদুয়ার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


