কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “রাষ্ট্র মানে গ্রামীণ ব্যাংক চালানো নয়।”
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা অর্থহীন, যদি রাষ্ট্রের সংকট থেকে মুক্ত না হওয়া যায়। রাষ্ট্রের ভবিষ্যত নিয়ে নির্বাচন করার প্রশ্ন ওঠে কেন—ড. ইউনূস, এই প্রশ্নের উত্তর কি আপনি দিতে পারবেন? আপনি গণঅভ্যুত্থানের অংশ ছিলেন না।‘
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘তিনি গণঅভ্যুত্থানের অংশ ছিলেন না। যারা এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল, তারা অনেকেই জীবন দিলেন, বহু পঙ্গু হয়েছেন, আমাদের সন্তানেরা শহীদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা উৎখাত করা এবং নতুন রাষ্ট্র গঠন করা।‘
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম ভুল ছিল, তিনি তরুণ ছাত্রদেরকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটি তার রাজনৈতিক অজ্ঞতা এবং ভুল বিচার ছিল। আমাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব জনগণের, যেখানে ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য।’
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূস আমাদের দুর্বল রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেই উদ্দেশ্য ভুল বুঝেছেন। তার পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।’
প্রধান উপদেষ্টা সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা এসেই তরুণদেরকে দায়ী করেছেন, কিন্তু রাষ্ট্র চালানোর দায়িত্ব জনগণের, কোনো এক ব্যক্তির নয়।’
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আপনি জনগণের সঙ্গে কথা বলেননি। আপনি রাজনীতির বাস্তবতা বোঝেননি। রাষ্ট্র পরিচালনায় গণঅভ্যুত্থান ছাড়া বৈধতার কোনো পথ নেই।’
অবৈধ সরকারের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটা মানে নয় যে, আমরা আপনাকে চায় না, তবে আপনার প্রথম কাজ হতে হবে আপনার বৈধতা নিশ্চিত করা। এটা শুধু গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সম্ভব।’
এ সময় তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী উপদেষ্টা সরকার গঠনের প্রশ্ন তুলেন।
ফরহাদ মজহার মন্তব্য করেন, ‘আপনি কেন নির্বাচন করতে চান, এটা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা গ্রামীণ ব্যাংক চালানোর মতো নয়, রাষ্ট্র চলাতে হলে জনগণের অধিকার ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’


