কানসাস সিটিতে ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ‘গ্রুপ জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হওয়ার আগে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে সেখানে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই পাবলিক প্লেসে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ানোর আগে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকরা একে অপরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছেন এবং এক পর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে সমর্থকদের আলাদা করতে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আহত বা আটকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক শহরগুলোতে বিরাজমান উৎসবমুখর পরিস্থিতির মাঝে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অশান্তির ঘটনাটি ঘটল। এর আগে একই দিনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মিল ক্রিক পার্ক এবং কান্ট্রি ক্লাব প্লাজার চারপাশে হাজারো আর্জেন্টিনা সমর্থক স্লোগান, গান ও পতাকা নিয়ে কানসাস সিটির রাস্তাগুলো মুখরিত করে তোলেন।
একজন সমর্থক সেই পরিবেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তার মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর্জেন্টিনাতে ফিরে গেছেন। অন্য একজন এমন এক আবেগের কথা বলেন যা কেবল নিজে উপস্থিত থেকে অনুভব করলে বোঝা সম্ভব। অন্যদিকে, এই টুর্নামেন্টে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ভ্রমণ করা এক ভক্ত সগর্বে বিশ্বকাপের একটি রেপ্লিকা ট্রফি প্রদর্শন করছিলেন।
টাইমস স্কয়ারেও শুরুতে এমন উৎসবমুখর পরিবেশই ছিল, যেখানে নিউইয়র্কের অন্যতম আইকনিক এই স্থানে দুই দেশেরই শত শত সমর্থক পতাকা ওড়াচ্ছিলেন এবং গান গাইছিলেন। পর্যটক এবং পথচারীরাও এই উদযাপনে শামিল হচ্ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সমর্থকদের দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবেশটি নষ্ট হয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক এবং মিশ্র। অনেকে এই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন, এই সংঘর্ষের আগে টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে এমন কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি ফিফার জন্য একটি লজ্জাজনক বিষয়, আবার অনেকে উভয় দলের সমর্থকদেরই সমালোচনা করেছেন।
এই ঘটনাটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হাজারো বিদেশি সমর্থক জড়ো হওয়ায়, এই ধরনের বড় জনসমাবেশগুলো বেশ বড় লজিস্টিক এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবে নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সাড়া দেয় এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে কাতারে জেতা শিরোপা ধরে রাখার অন্যতম ফেবারিট হিসেবে এই ম্যাচে মাঠে নামছে। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসা আলজেরিয়া ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শক্তির জানান দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দুই দলের সমর্থকরাই এখন আশা করবেন, যেন তাদের দল এরপর থেকে কেবল ফুটবলীয় কারণেই সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয়।


