গোপালগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হতেই একাডেমিক ভবন ধসে পড়ার আতঙ্কে ক্লাস ছেড়ে দ্রুত ‘ওয়াশ ব্লকে’ আশ্রয় নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৮৬ নম্বর তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির দেয়ালে ফাটল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ায় এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামান্য দুর্যোগ দেখা দিলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে জানমালের ঝুঁকি এড়াতে সবাই বাধ্য হয়ে ওয়াশ ব্লকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন।
বিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক মাস আগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মঈনুল হক একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ওই বরাদ্দের ভিত্তিতে এলজিইডি’র প্রকৌশলী প্রাক্কলন (এস্টিমেট) প্রস্তুত করলেও ইউএনও বদলি হওয়ার পর সেই বরাদ্দ বাতিলের অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার জানান, শনিবার দুপুরে ঝড় শুরু হতেই শিক্ষার্থীদের দ্রুত ওয়াশ ব্লকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আগের ইউএনও স্যার ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হতেই উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম সেই বরাদ্দ বাতিল করে দেন। পরবর্তী সময়ে আমরা ঘর নির্মাণের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।’
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও জরুরি এই বরাদ্দ বাতিল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয়দের মতে, ওই ঘরটি নির্মাণ হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন ঘর নির্মাণের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত টিনশেড ঘর নির্মাণসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।


