অবশেষে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হলো মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঝিটকার হাজারী গুড়ের। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) গত ১৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এ পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধন সনদ ইস্যু করেছে।
যদিও সনদটি ইস্যু হয়েছে ২০২৬ সালে, নিবন্ধন সনদে উল্লেখ রয়েছে যে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’ পণ্যটি জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে জিআই-৬২ নম্বরে ৩০ শ্রেণিতে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিবন্ধিত। ফলে নিবন্ধনের দুই বছরের বেশি সময় পর আনুষ্ঠানিক সনদ হাতে পেল জেলার এই ঐতিহ্যবাহী পণ্য।
হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত হাজারী গুড় তার স্বতন্ত্র স্বাদ, মনোমুগ্ধকর সুগন্ধ এবং শতবর্ষী উৎপাদন পদ্ধতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে সমাদৃত। স্থানীয় খেজুর রস সংগ্রহকারীদের দক্ষতা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হওয়ায় এ গুড়ের স্বকীয়তা আজও অক্ষুণ্ন রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথও ঝিটকার হাজারী গুড়ের স্বাদ গ্রহণ করে এর প্রশংসা করেছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও এলাকাবাসীর গর্বের অংশ। এরই মধ্যে হাজারী গুড় সরকারিভাবে মানিকগঞ্জ জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১ এর মাধ্যমে সনদটি ইস্যু করা হয়েছে। এর ফলে পণ্যটির উৎপত্তিস্থল এবং ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষিত হলো।
স্থানীয় সরকার দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের দাবি, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলেই হাজারী গুড়ের জিআই সনদপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
জিআই সনদ শুধু একটি সম্মানজনক স্বীকৃতিই নয়, এটি স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং কারিগরি দক্ষতার আন্তর্জাতিক পরিচয় বহন করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ স্বীকৃতির ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
এ ছাড়া জিআই স্বীকৃতির কারণে হাজারী গুড়ের ব্র্যান্ড মূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় উৎপাদক, রস সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই শতকের ঐতিহ্য ধারণ করে ঝিটকার হাজারী গুড় এখন জাতীয় পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ২০২৪ সালে নিবন্ধন এবং ২০২৬ সালে সনদ ইস্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের তালিকায় নতুন মর্যাদা অর্জন করল মানিকগঞ্জের এই গর্বিত পণ্য।


