সংসদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিশেষ কমিটির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ এই প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে কমিটির পক্ষ থেকে ১২ দফা এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রোববার বেলা তিনটায় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
কমিটির ১২ দফা সুপারিশ
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটির পক্ষ থেকে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত বাড়িয়ে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা অর্জন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল-২ দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করে তদারকি জোরদার করা এবং সিস্টেম লস কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ। বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও সুপারিশ করা হয়।
বিরোধী দলের ১০ দফা সুপারিশ
কমিটির কার্যপরিধির আলোকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট ১০ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির প্রকৃত চাহিদা নিরূপণে সমীক্ষা চালানো।
দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, অফশোর অনুসন্ধান গতিশীল করা, ভোলা-জামালপুর-জকিগঞ্জ পাইপলাইন সংযোগ উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে কয়লার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
নতুন এসপিএম (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) দ্রুত চালু করা, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণে অর্থায়ন এবং রিফাইনারি মিশ্রণে হেভি ক্রুড অন্তর্ভুক্ত করা।
২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন মোট চাহিদার ১০ শতাংশে উন্নীত করা, সৌর সামগ্রীর ওপর থেকে সব কর প্রত্যাহার এবং পার্বত্য এলাকায় মাইক্রো-হাইড্রোর সম্ভাবনা যাচাইয়ে সমীক্ষা করা।
সংকটকালীন সরকারি দপ্তরে গাড়ির ব্যবহার কমানো এবং হাইড্রোজেন ফুয়েল ও বায়োগ্যাসের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির পর্যবেক্ষণ
এই বিশেষ কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি, অবকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার এই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সংসদীয় তদারকি এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কমিটিতে যারা ছিলেন
দশ সদস্যের এই বিশেষ কমিটিতে সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছাড়াও ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম, মো. নূরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বাতেন, মো. আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মোহাম্মদ আবুল হাসান।


