জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দ্রুত যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমটি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্পিডবোট চালক ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই রুটে আগে প্রতিদিন আরিচা ও কাজিরহাট ঘাট থেকে পালাক্রমে ৩০টি স্পিডবোট চলাচল করত। পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল থেকে এই রুটে স্পিডবোট চলাচল সীমিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে জ্বালানি একেবারেই না পাওয়ায় সার্ভিসটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেখানে একটি বোটও চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটটি উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঈশ্বরদী, বেড়া ও সাথিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ দ্রুত ঢাকা পৌঁছাতে এই রুটের ওপর নির্ভর করেন। স্পিডবোটে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটে নদী পার হওয়া সম্ভব হওয়ায় এটি যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
সার্ভিস বন্ধ হওয়ায় যাত্রীরা এখন বাধ্য হয়ে ফেরি ও লঞ্চ ব্যবহার করছেন। এতে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। ফেরিতে নদী পার হতে পৌনে দুই থেকে দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। অনেক সময় ফেরিতে গাড়ি ওঠার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
ঢাকাগামী কয়েকজন যাত্রী জানান, আগে কাজিরহাট থেকে আরিচা হয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টা সময় লাগত। এখন সেই একই পথে ঢাকা যেতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের এই যাত্রায় মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ছে।
স্পিডবোট বন্ধের প্রভাবে ফেরি ও লঞ্চে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে ভিড় বাড়ছে, অন্যদিকে সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে।
দ্রুত যাতায়াতের এই সুবিধা হারিয়ে যাত্রীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে স্পিডবোট সার্ভিস পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
স্পিডবোট মালিকেরা জানান, বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে তারা এখন বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিদিন প্রচুর জ্বালানি প্রয়োজন হলেও কোনো সরবরাহ নেই। এতে দিন দিন তাদের লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।
এদিকে স্পিডবোট চালকেরাও গভীর সংকটে পড়েছেন। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক চালক বলেন, প্রতিদিন দু-একটি ট্রিপ দিয়ে তাদের সংসার চলত। এখন আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্পিডবোট মালিক সমিতির নেতারা জানান, জ্বালানি সংকট মেটাতে তারা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তবে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ামাত্রই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


