জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বৈধতা নিয়ে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা গেছে।
অধিবেশনে একদিকে যেমন রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ ও এলাকার সমস্যার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, জুলাই সনদ রক্তের অক্ষরে লেখা একটি অঙ্গীকার। এটি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর, তবে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
তিনি বিরোধী দলের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে এসে কৃতিত্ব কুক্ষিগত করার চেষ্টা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র গঠন—এই দুই জনমতের একটিকে গ্রহণ করে অন্যটিকে ‘আইসিইউ’তে পাঠানো হচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে পুনরায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আরেক সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, ১৯৭৭ সালে বিএনপি গণভোটের প্রথা শুরু করলেও ২০২৬ সালে এসে তারা এটি অস্বীকার করছে। তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
জবাবে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও জয়নাল আবদিন ফারুক অতীতে গণতন্ত্র ফেরাতে বিএনপির ভূমিকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
অধিবেশনে জ্বালানি সংকটের এক ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেন জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত রাতে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি গাড়ির তেল পাননি। সংসদে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেলাম না। অথচ মহান সংসদে এত পরিমাণ ‘তেল’ অপচয় হচ্ছে, যা বাইরে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পাশাপাশি তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, জরাজীর্ণ লাইনের কারণে মানুষ দিনের বেলা রান্না করতে পারছে না, বাধ্য হয়ে মধ্যরাতে সেহরি খাওয়ার মতো করে খাবার খেতে হচ্ছে।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার এলাকার সড়কের বেহাল দশা ও ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দেবীদ্বারের মহাসড়কটি এখন ‘মৃত্যুর মিছিলে’ পরিণত হয়েছে। কেবল চলতি মাসেই ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা ১০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে। আপনাদের কাছে আমি ভিক্ষা চাই, দ্রুত রাস্তাটি প্রশস্ত করে দিন। এলওসি-র আওতায় এটি ছয় লেন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ১৮ ফিট হয়ে আছে। আমি এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না।’
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে আরও অনেক সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।


