জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী দমন অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—বিবিসি নতুন অডিও প্রমাণে এমন দাবি ওঠার পর, অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এ আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরবাগই নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত সামরিক রাইফেল ও ধাতব পেলের সমন্বয়ে গঠিত গুলি দ্বারা নিহত হন’। হাজার হাজার মানুষ গুরুতর ও আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছেন।
এই সময়ে সংঘটিত সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে যারা সহিংসতা চালিয়েছে ও যারা তা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা উচিত বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। তবে সংস্থাটি কোনোভাবেই মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না।
এ ছাড়া, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) প্রেরণের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘ প্রতিবেদনে রোম সংবিধির ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এমন সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশে ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভ দমন অভিযানে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের’ নির্দেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে ‘বিবিসি আই’-এর যাচাই করা একটি টেলিফোন অডিও কলে।
মার্চে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, গুলি করা হবে।’
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অনুপস্থিত অবস্থায় শেখ হাসিনার বিচার চলছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ এই অডিওকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।


