জুলাই মাসে দেশের সব বিভাগেই স্বাভাবিক বর্ষার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও এর মধ্যেই এক থেকে দুই দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।
এদিকে, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি এবং উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের আট বিভাগেই প্রায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, যেখানে ৬৮০ থেকে ৭২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ৫৩০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ৪৩০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার, রংপুরে ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার, ঢাকায় ৩৬০ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার, খুলনায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার এবং রাজশাহীতে ৩০০ থেকে ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিভাগভেদে মাসজুড়ে ১৬ থেকে ২৯ দিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে মাসের বিভিন্ন সময়ে দেশের ওপর দিয়ে এক থেকে দুই দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ফলে বর্ষাকাল হলেও গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না। এ ছাড়া দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানির স্তর জুলাই মাসে সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া মাসে এক থেকে দুই দফা মৃদু তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। জুনে সারা দেশে গড়ে ৪৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হয়েছে ৩১২ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ কম। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির ঘাটতি ছিল বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে। তবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
গত মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ১১ জুন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মাসজুড়ে কয়েক দফায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহও বয়ে যায়। জুনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৪ জুন যশোরে রেকর্ড করা হয়।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় ১২ জুন নেত্রকোনায়, যেখানে ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল।


