জিয়াউল আহসানের পক্ষে মামলা লড়বেন ব্রিটিশ আইনজীবী

জিয়াউল আহসানের পক্ষে মামলা লড়বেন ব্রিটিশ আইনজীবী
Advertisement
Advertisement

গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনায় সম্মতি জানিয়েছেন ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন কে কেসি। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

গত রোববার পাঠানো ওই চিঠিতে স্টিভেন কে কেসি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১০(৮) অনুযায়ী তিনি জিয়াউল আহসানের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। তবে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে শর্তাবলি চূড়ান্ত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চিঠিতে স্টিভেন কে কেসি তার পূর্ব অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একাধিক আসামির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে তিনি বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানান। সে অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ট্রাইব্যুনালের আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে পরিচিত বলে দাবি করেন।

জিয়াউল আহসানের অন্যতম আইনজীবী নাজনীন নাহার টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির অনুরোধেই স্টিভেন কে কেসি তার পক্ষে মামলা পরিচালনায় সম্মতি দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বার কাউন্সিল অনুমোদন দিলে আমরা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করব।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের আইনে বিদেশি আইনজীবীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে, তবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পূর্বানুমতি প্রয়োজন।

এর আগে, ১৪ জানুয়ারি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জিয়াউল আহসান র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং তার নির্দেশ ও অনুমোদনেই র‍্যাবের সদস্যরা এসব অপরাধ সংঘটিত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad