জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আর জামায়াতে ইসলামীর জোট নিয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে ঠিক সেসময় এনসিপি নেতা সামান্তা শারমিন বললেন, জামায়াত মিত্র হিসেবে নির্ভরযোগ্য নয়।
সামান্তা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
রোববার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য মিত্র না। তার রাজনৈতিক অবস্থান বা দর্শনসহ কোনো সহযোগিতা বা সমঝোতায় যাওয়া এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে বলে আমি মনে করি।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এনসিপির নির্বাহী কাউন্সিলের বৈঠকে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার রাতে বৈঠকে বসেন জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সেখানেও দুই দলের নেতারা একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। রোববারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
এনসিপির এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ হতেই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়। এমনকি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ সদস্য জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন না করার দাবি জানিয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এরই মধ্যে খবর আসে এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা।
এমন বাস্তবতায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন সামান্তা শারমিন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সম্প্রতি রাজনৈতিক জোট প্রসংগে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতারা মন্তব্য করেছিলেন জামায়াতের জুলাইয়ের স্পিরিট, বাংলাদেশের নিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে একমত হলে জামায়াতের সাথে জোট করতে আসতে পারে যেকোনো দল।’
‘জাতীয় নাগরিক পার্টির এত দিনের অবস্থান অনুযায়ী তার মূলনীতি, রাষ্ট্রকল্প জামায়াত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন তথা সেকেন্ড রিপাবলিককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল এনসিপি। ফলে এই তিনটি বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান যেকোনো রাজনৈতিক মিত্রতার পূর্বশর্ত।’
সামান্তা জানান, তার বর্তমান অবস্থান এনসিপির গত দেড় বছরের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘নিম্নকক্ষে পিআর আওয়াজ তুলে সংস্কারকে ব্যাহত করায় লিপ্ত হয়েছিল জামায়াত। ফলত এনসিপির আহ্বায়ক বলেছিলেন “যারা সংস্কারের পক্ষে নয় তাদের সাথে জোটও সম্ভব নয়।” তাই জুলাই পদযাত্রার পর থেকে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় আহ্বায়কসহ একাধিক বরাতে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে এনসিপি– এই মর্মে সারা দেশ থেকে প্রার্থীদের আহ্বান করা হয়।’
সামান্তা এটাও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সমস্যা তুলে ধরার অর্থ এই নয় যে তিনি বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বা বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে চান।
তিনি বলেন, ‘বরং বিভিন্ন বিষয়ে এতদিন ধরে প্রকাশিত ও নানান মহলে প্রশংসিত এনসিপির অবস্থান আমি সঠিক মনে করি ও নিজেকে এই আদর্শের সৈনিক মনে করি। বিএনপি–জামায়াতের যেকোনোটির সঙ্গে জোট এনসিপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পলিসি থেকে সরে গিয়ে তৈরি হচ্ছে।’


