এবার ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
শনিবার সন্ধ্যায় দলটির জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ১০ দলীয় জোট।
বেলা ১১টায় দলগুলোর পক্ষ থেকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই সংবাদ সম্মেলনের বার্তা গণমাধ্যমে পাঠান।
এদিকে, আসন না পেয়ে বিএনপি জোটের সঙ্গে মনোমালিন্য তৈরি হওয়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গেও জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে জামায়াত।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে শুধুমাত্র আসন ভাগাভাগি নিয়ে আমাদের মনোমালিন্য হয়নি। আমি ২০০৬ সালের পর থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটে ২০ বছর থেকেছি। কিন্তু বিএনপি এখন ক্ষমতায় এলে ফের আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদ কায়েম করবে বলে মনে হচ্ছে। যা দলটির প্রকৃত নীতির সঙ্গে যায় না। তাই আমার দলের যতটুকু শক্তি সমর্থ্য আছে সেটি নিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী জামায়াত জোটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র আসন ভাগাভাগির হিসাব করলে আমরা এখন জামায়াত জোটে যেতাম না। কারণ, এখন আমাদের দেওয়ার মতো জামায়াতের কিছু নেই। কিন্তু ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে জামায়াত জোটে যাচ্ছি।’
দীর্ঘদিন বিএনপি জোটে থাকলেও নির্বাচনের আগে আসন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দলটি জোট ছেড়েছিল।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ টাইমসকে বলেন, ‘গতকাল আমি বলেছিলাম আজ সংবাদ সম্মেলন আছে, সেখান থেকে আরেকটি দল যুক্ত হবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, জানতে পারবেন কারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।’
আলোচনা চলছে মান্নার সঙ্গেও
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গেও জামায়াত জোটের নেতাদের আলোচনা চলছে।
বগুড়া-২ আসন থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও মান্নাকে বাদ দিয়ে পরে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নেতা শাহে আলমকে সেখানে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে।
মান্নাকে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে রাজি হননি বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে।
কয়েকদিন থেকে জামায়াত জোটের সঙ্গে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি মাহমুদুর রহমান মান্না।
জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করছেন। নানা আইনি জটিলতা মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত এ দুই আসনে তার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। জামায়াত মান্নাকে যেকোনো একটি আসন ছাড় দিতে চান। তবে, মান্না উভয় আসনেই জোটের সমর্থন নিয়ে ভোট করতে চান। তিনি যেকোনো একটি আসনে জেতার নিশ্চয়তা চাইছেন।’
তাই মান্নার জোটে আসার বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে।
এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না শুক্রবার টাইমসকে বলেছিলেন, ‘আসলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন সমঝোতা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তাই কে কখন কোন দিকে যাচ্ছে তা বলা কঠিন।’
জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো দলটির সঙ্গে এ বিষয়ে তেমন কথা হয়নি। হয়তো তারা (জামায়াত) নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারে। জামায়াত জোটে যাওয়া নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা যাক।’
নাগরিক ঐক্যের একজন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি বলেন, ‘জামায়াত জোটে গিয়ে এমপি হতে না পারলে অবস্থান নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আরও নিম্নমুখী হতে পারে মান্নার। তাই বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছেন।’


