জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এসব দল অতীতেও গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ করেছে এবং এখনো নির্বাচনের নামে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কোরআন অবমাননা ও রাসুলকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘তারা কোনোভাবেই নির্বাচন চায় না। জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এদের অতীত ইতিহাসেই সেটি স্পষ্ট। ১৯৮৬ সালে সবাই বলেছিল এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে না, কিন্তু শেখ হাসিনা গেলেন, তারপর ইসলামী দলটিও গেল। অথচ খালেদা জিয়া সেই নির্বাচনে যাননি, কথা রেখেছিলেন। আবার ১৯৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তারা আন্দোলন করেছিল পরাজিত শক্তির সঙ্গে মিলে। ২০০৮ সালেও বিএনপি যেতে চায়নি, কিন্তু জোটের চাপে যেতে হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা সবসময় আওয়ামী লীগের লেজ ধরে চলতে ভালোবাসে। এ কারণেই এখনো তাদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক। নভেম্বরে গণভোটের দাবির পেছনেও অন্য কোনো মাস্টার প্ল্যান আছে কিনা তা এখন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে।’
‘বেহেশতের টিকিট বিক্রির প্রচারণা’ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কিছু ভ্রান্ত মানুষ ইসলামের নামে মানুষকে বিপথে নিতে চাইছে। জামায়াত ঘরে ঘরে কর্মী পাঠিয়ে বলছে দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতের রাস্তা সহজ হবে। এটা ইসলামের বিকৃতি। আল্লাহর তাওহিদে বিশ্বাসী এ দেশের মানুষ এমন বিভ্রান্তি মেনে নেবে না।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আলমগীর হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মাওলানা আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক এটিএম আবদুল বারী ড্যানি বক্তব্য দেন।


