নির্মাণের সময়সীমা এক বছরের বেশি পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ১২ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন। ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প এখন আর্থিক জটিলতা আর ঢিমেতালের কাজের আবর্তে বন্দী।
ফলে শত বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনে শয্যা সংকটের চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়েই চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষকে। যেখানে ১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি হস্তান্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
১৯১২ সালে মাত্র ২০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় হাসপাতালের মূল ভবনটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়েই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ভবনে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমনকি ১২ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের জন্য আশ্রয় নিতে হয়েছে টিনশেড ঘরের। রোগীর চাপ বাড়লে মেঝেতে জায়গা পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ে।
ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপের কথা মাথায় রেখে ২০২২ সালে গণপূর্ত বিভাগ হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সেবা।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরএমও মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, প্রতিদিন গড়ে ৮টি ওয়ার্ডে দেড় শতাধিক এবং বহির্বিভাগে প্রায় সাতশ রোগী সেবা নিচ্ছেন। বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়া হাসপাতালের প্রধান সমস্যা।
বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন এস এম মনজুর-এ-এলাহী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংকট থাকা সত্ত্বেও রোগীদের সাধ্যমতো সেবা দেওয়া হচ্ছে। নতুন ভবনটি চালু হলে চিকিৎসার পরিধি বহুগুণ বাড়বে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে আসা আলমগীর হোসেন ও আসমা বেগমের মতো সাধারণ রোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নির্মাণকাজ চলায় তাদের আস্থার এই প্রতিষ্ঠানটি জৌলুস হারাচ্ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেহাল দশা আর শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রাচীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিয়ে গেলেও আধুনিক ভবনটি দ্রুত চালু না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সহসাই কমছে না।
ভবন নির্মাণে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম জানান, মাঝপথে আর্থিক জটিলতায় কাজ কিছুটা থমকে গিয়েছিল। তবে নতুন করে প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। ভবনের ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যেই নতুন ভবন হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


