জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি। কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করলে তখন বলতে ইচ্ছা করে—তোরা রাজাকার, তোরা আল-শামস, তোরা আল-বদর।’
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমি বিলোনিয়া সীমান্তে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছি। আজকে যারা গণতন্ত্রের ছবক দেয় এবং ২৪-এর আন্দোলনকে একাত্তরের সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়, তাদের জানা উচিত যে জুলাই বিপ্লবের বীজ বপন হয়েছিল অনেক আগে থেকেই।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী শক্তির ত্যাগের বিনিময়ে যে গণবিস্ফোরণ ঘটেছে, তার ফলেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে।
মন্ত্রী ২০০৪ সালের একটি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘পাকিস্তানে সাফমা কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সঙ্গে জামায়াতের একজন এমপি ছিলেন। আমি মুক্তিযোদ্ধা জেনে পাকিস্তানি এক এমপি আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন, যা আজও আমি ভুলিনি।’
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের বীভৎসতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডির সেই হোয়াইট হাউসে নির্যাতিতা বোনদের যে করুণ অবস্থা আমি দেখেছি, তা ভোলার নয়। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি এবং এখন দেশের উন্নয়নের জন্য ঐক্য চাই, তবে তা কখনোই আদর্শের সঙ্গে আপস করে নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান ঐক্যের ডাক দিয়েছেন এবং বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করেছেন। আমরা শান্ত থাকতে চাই, কিন্তু আদর্শের পরিপন্থী কোনো উসকানি দিলে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বাধ্য করা হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতার গতদিনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেন, ‘সত্যকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য।’


