জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইতোমধ্যে উপ-উপাচার্যের ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাবি শাখা।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে মাহফুজুর রহমান জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল পুনঃনিরীক্ষার দাবি করেন।
তিনি লিখেছেন, ‘একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণযোগ্য করতে প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে সকল দলের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই-বাছাইপূর্বক ভোট পুনর্গণনা করার পর বিজয়ীদের ফলাফল পুনঃপ্রকাশ করা উচিত।’
এরপরই একই দিন জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম একটি প্রতিবাদমূলক বিবৃতি দেয়। ফোরামের সভাপতি মো. শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপ-উপাচার্যের মতো উচ্চ পদে থাকা কর্মকর্তার মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মত হিসেবে গণ্য হয় না; এটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করে।
শিক্ষক ফোরাম প্রশাসনের ‘দ্বৈত মানদণ্ড’কেও সমালোচনা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, এর আগে জাকসু নির্বাচনের সময় নাহরিন ইসলাম খানের মন্তব্যের কারণে প্রশাসন একটি অগ্রহণযোগ্য প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। অথচ উপ-উপাচার্যের নির্বাচনী মন্তব্য এবং জাকসু নেতাদের বিষয়ে অপপ্রচারের সময় প্রশাসন নীরব থাকায় দ্বৈত মানদণ্ড প্রতিফলিত হয়েছে।
বিবৃতিতে তারা উপ-উপাচার্যকে তার মন্তব্য প্রত্যাহার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও অস্থিরতার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, রোববার জাবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সহ-দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উপ-উপাচার্যের মন্তব্যে উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক বিবৃতিতে বলেন, উপ-উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক বা বিতর্কিত রাজনৈতিক মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তারা প্রশাসনকে সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত যেন প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে প্রতিফলিত না হয়।


