জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা।
একইসঙ্গে জবিতে সম্প্রতি অশ্লীলতার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ঘটনাকে ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিকতার পুলিশি পাহারা আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ‘জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণ চলে, প্রশাসন কী করে?’, ‘অবিলম্বে ধর্ষকদের গ্রেপ্তার কর, বিচার কর’ এবং ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’–এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, গত ১৩ মে থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি বলে নিরাপত্তার দায় তাদের নয়, তবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ঘটনাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন চাইলে বহিষ্কার না করে কাউন্সেলিং বা অন্য কোনো বিকল্প সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনের বিপরীতে কিছু ছাত্রসংগঠন অবস্থান নিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার এই ভূমিকা ইতিহাস মনে রাখবে।
শাখা ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ বলেন, শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বিচার না পাওয়ার এই সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা অভিভাবকের মতো হওয়া উচিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেই শিক্ষার্থীদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ করছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া এক নারী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ধর্ষণের বিচার দাবিতে আন্দোলন করতে হওয়াটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এবং বিচার হচ্ছে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাও সেই বিচারহীনতার বাস্তবতারই অংশ।
সমাবেশ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে–দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, প্রক্টোরিয়াল বডির জবাবদিহি নিশ্চিত করা, কুইক রেসপন্স টিম গঠন, জরুরি হটলাইন চালু করা, ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং পর্যাপ্ত নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা।


