আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২২ দফা আলোচ্যসূচি নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বসতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার।
এদিন বেলা ৩টায় নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। সভায় অন্যান্য চার কমিশনারসহ সরকারের ৩১টি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সভার আলোচ্যসূচি
সভায় নির্বাচনী প্রস্তুতির নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সূচিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা সূচি সমন্বয়, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অপব্যবহার প্রতিরোধ, ডাক ভোটের ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী উপকরণ পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের সড়ক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন, দুর্গম এলাকায় ভোটকর্মী ও উপকরণ পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হবে।
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগে সহায়তা, ঋণখেলাপিদের তথ্য সংগ্রহ, নির্বাচনী ব্যয়ের বাজেট বণ্টন, জনবল ও যানবাহন সরবরাহসহ প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে।
সভায় নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ভোটের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক দল গঠন এবং অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান প্রচারসামগ্রী অপসারণ, নির্বাচনের সময় যানবাহন ও নৌযান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, ডাক ভোট ও কারাবন্দীদের ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও এআই-নির্ভর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।
৩১ মন্ত্রণালয় ও দপ্তর আমন্ত্রিত
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ৩১টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আগে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব।
এ ছাড়া রয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব, অর্থ সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব।
অন্যদের মধ্যে আছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব।
ইসির সঙ্গে বৈঠকে আরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং কারা মহাপরিদর্শককেও।


