ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় থেকে রিক্তা আক্তার (১১) নামের এক শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি ভবন থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের বাবার অভিযোগ তাকে হত্যা করা হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর রোডের একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই শিশুটিকে ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই শিশু গৃহকর্মী ধানমন্ডির একটি ভবনের দশ তলায় একটি বাসায় এক মাস ধরে কাজ করছিল। শুক্রবার সকালে বাসার বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। তাকে উদ্ধার করে ইবনে সিনা স্পেশালাইজড অ্যান্ড কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মৃত রিক্তার বাবা মো. শাহিন মিয়া জানান, তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জের সালনা থানার নিজগাঁও গ্রামে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী মাজেদা ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাজীপুর টঙ্গী এলাকায় থাকেন। চার সন্তানের মধ্যে রিক্তা ছিল দ্বিতীয়।
একমাস আগে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে ধানমন্ডির ওই বাসায় মেয়েকে কাজে দেন। এক সপ্তাহ আগে ভিডিও কল দেন। তখন মেয়ের মুখ ফোলা দেখতে পান। পরে ওই দালালকে বলেন মেয়েকে বাড়ি দিয়ে যেতে। তবে দালাল দশ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলে। এরপর আর কথা হয়নি। আজকে জানতে পারেন, রিক্তা মারা গেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে ওপর থেকে পড়ে মারা যায়নি। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’


