ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে দেশের দুটি জাতীয় দৈনিক ও দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলায় জড়িত সন্দেহে অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের গ্রেপ্তার করে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
যে দুটি পত্রিকার অফিস আক্রান্ত হয়েছে সেগুলো হলো ঢাকার কারওয়ান বাজারের প্রথম আলো ও ফার্মগেটের ডেইলি স্টার ভবন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র এবং ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শেরপুর জেলার বাসিন্দা রাকিব হোসেন প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তার আইডি থেকে ধ্বংসস্তূপের ছবি তুলে পোস্ট করা ছাড়াও উসকানিমূলক পোস্টও দেওয়া হয়।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে হামলার ঘটনায় লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন, তিনি ওইদিন হামলার পর ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে এক লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন, যা এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্যদেরও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং শনাক্ত হওয়া বাকি সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, আসন্ন বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সেখানেই পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের নিকটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যে তিনজনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।
ওই বৈঠকেই ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত এবং অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।


