জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বর্জনের পর রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিলটি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি ক্যাম্পাসের নতুন কলাভবন থেকে শুরু হয়ে জাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘বয়কট বয়কট, জাকসু বয়কট’, ‘প্রহসনের জাকসু, বয়কট বয়কট’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং ভিপি পদপ্রার্থী শেখ সাদীসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।
যাকসু নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে দাবি করে বাবর বলেন, ‘পুরো নির্বাচনটাই কারচুপির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। আমরা এই নির্বাচন বয়কট করছি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল হল এবং শহীদ তাজউদ্দীন হলে আমাদের কোনো পোলিং এজেন্টকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।’
এদিকে, ভিপি পদপ্রার্থী শেখ সাদী বলেন, ‘তাজউদ্দিন হলে নির্বাচন পরিদর্শন করতে গেলে আমাকে খারাপ আচরণ করে বের করে দেওয়া হয়। এই কারচুপি নির্বাচনে আমরা বয়কট করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি কীভাবে মেয়েদের হলগুলোতে সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তারা কোনো কিছুর স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি। জাহানারা ইমাম হলে এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলে ভোট কারচুপির অভিযোগ এসেছে।’
এ ছাড়া, তিনি দাবি করেন, ‘মোট ১১ হাজার ভোটারের বিপরীতে ১৫ হাজার ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে। অধিক ব্যালট পেপার কেন ছাপানো হলো, নির্বাচন কমিশন তা নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। হাতে যে কালিটি দেওয়া হচ্ছে, সেটি একটু হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে। আবার এমন অভিযোগ এসেছে যে, ইলেকশন বুথের বাইরে অন্যান্য স্টাফরা হাতে কালি লাগিয়ে দিচ্ছে।‘
শেখ সাদী আরও বলেন, ‘ব্যালট মেশিন এবং ব্যালট পেপার জামায়াত নেতার কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। কেন এটি করা হলো, নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে বলেনি। আমরা এই নির্বাচন কমিশনকে মোটেও বিশ্বাস করি না এবং এটি একটি কারচুপি নির্বাচন।’


